প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা দুপুরের দিকে ঠিক যখন খুতবা শুরু হয়, তখন জাকার্তার উত্তর কেলাপা গ্যাডিং পাড়ার একটি নৌবাহিনী কম্পাউন্ডের মধ্যে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের মসজিদের ভেতর এবং বাইরে কমপক্ষে দুটি জোরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান।
পুলিশ জানায়, একটি খেলনা সাবমেশিন বন্দুক উদ্ধার করেছে তারা এবং এতে আধিপত্যবাদী স্লোগান লেখা ছিল। হাসপাতালে আহতদের দেখতে যাওয়ার পর দেশটির ডেপুটি হাউস স্পিকার সুফমি দাসকো আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তি ১৭ বছর বয়সী একজন ছাত্র এবং তার অস্ত্রোপচার চলছে।’ তবে, তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধান লিস্টিও সিগিত প্রাবোও জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিস্ফোরণে আহতদের অস্ত্রোপচার করা দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের সদস্যরা বর্তমানে সন্দেহভাজনের পরিচয়, তার বাসস্থান, তার বাড়ি এবং অন্যান্য বিষয়গুলো নির্ধারণের জন্য গভীর তদন্ত চালাচ্ছেন।’
সিগিত বলেন, তদন্তকারীরা এখনও তথ্য সংগ্রহ করছেন। তারা খুঁজে দেখছেন যে সন্দেহভাজন ব্যক্তি কীভাবে একটি খেলনা সাবমেশিন বন্দুক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল এবং কীভাবে এ বিস্ফোরণ ঘটালো। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে একটি মসজিদ এবং ইসলামিক সেন্টারে হামলা উল্লেখ করে একটি সাদা শ্রেষ্ঠত্ববাদী স্লোগান লেখাছিল অস্ত্রটিতে। এর পেছনের কারণ খোঁজার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীকে স্কুলে নিয়মিতভাবে হয়রানি (বুলিং) করা হতো এবং প্রতিশোধের উদ্দেশ্যেই সে এ হামলা চালিয়েছে, এমনকি এটি আত্মঘাতী হামলা হিসেবেই পরিকল্পিত হতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, এখনো এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাকার্তা পুলিশের মুখপাত্র বুদি হারমান্টো বলেন, ‘বুলিং একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে আমরা এখনও প্রমাণ সংগ্রহ করছি এবং যেহেতু অনেক সাক্ষী নিজেরাও আহত, তাই তথ্য সংগ্রহে সময় লাগছে।’ রাজধানী নিরাপদ এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জনগণকে উদ্বিগ্ন না হওয়ারও আহ্বান জানান।
বিস্ফোরণটি মসজিদের লাউডস্পিকারের কাছাকাছি স্থান থেকে ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। হামলায় বেশিরভাগ আহত শিক্ষার্থীর কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেকের শরীরে কাচের টুকরো ঢুকে গেছে। তাদের মধ্যে ৩৩ জনকে দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউনিফর্ম পরা কয়েক ডজন শিক্ষার্থী স্কুলের বাস্কেটবল কোর্টের উপর দিয়ে আতঙ্কে দৌড়াচ্ছে। দৃশ্যত বিস্ফোরণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কেউ কেউ হাত দিয়ে কান ঢেকে রেখেছে।