• সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন
  • |
  • |
Headline :
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হার্বেক্স এন্ড কোং (ইউনানী) এর কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুর রহমান পাপ্পু নিহত ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে পাবনায় বৃদ্ধ গ্রেফতার প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল খালে ভাসছিল সবজি বিক্রেতার মরদেহ বেড়েছে খেজুর চিনি ছোলার, কমেছে পেঁয়াজের রোজায় বাড়তি চাহিদার পণ্য মাওলানা ভাসানী ছিলেন মেহনতী মানুষের মুক্তির দিশারী- এ্যাড. শিমুল বিশ্বাস শেখ হাসিনার রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার দিনাজপুরে শীতকালীন বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছে গোপালগঞ্জ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে কলেজ ভাঙচুর জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ এলাকা ঘোষণা

স্পষ্টবাদী ডেস্ক / ৪৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ এলাকা ঘোষণা
হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ এলাকা ঘোষণা

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক রুই জাতীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ এলাকা ঘোষণা করেছে সরকার। নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে আরোপ করা হয়েছে ১৭টি কঠোর নিষেধাজ্ঞা। গতকাল বুধবার (৫ নভেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে অনন্য।

এখানকার রুই জাতীয় মাছ জেনেটিক্যালি বিশুদ্ধ। এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত নদীতে প্রজননের ফলে প্রচুর নিষিক্ত ডিম পাওয়া যায়। একই সঙ্গে নদীটি বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিনেরও আবাসস্থল। হালদা নদী ও এর তীরবর্তী ২৩ হাজার ৪২২ দশমিক ২৮ একর এলাকা হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, হালদা নদী ও আশপাশের এলাকায় বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেগুলো হলো নদী থেকে কোনো ধরনের মাছ বা জলজ প্রাণী ধরা বা শিকার করা যাবে না, মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সময়েই কেবল নিষিক্ত ডিম আহরণ করা যাবে, প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, নদীর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা যাবে না, মাছ, ডলফিন বা অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর কাজ করা নিষিদ্ধ, বসতবাড়ি বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের পয়ঃবর্জ্য নদীতে ফেলা যাবে না, নদীর বাঁক কেটে সোজা করা যাবে না, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৭টি সংযুক্ত খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ, নতুন রাবার বাঁধ বা কংক্রিট বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না, তদারকি কমিটির অনুমতি ছাড়া পানি শোধনাগার বা সেচ প্রকল্প থেকে পানি উত্তোলন করা যাবে না, দেশি বা বিদেশি কেউ অনুমতি ছাড়া গবেষণা পরিচালনা করতে পারবে না, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না, কর্ণফুলী মোহনা থেকে নাজিরহাট সেতু পর্যন্ত ভারী ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ, হালদা ও এর শাখা নদীতে বালুমহাল ইজারা দেওয়া যাবে না এবং ড্রেজার ব্যবহার বন্ধ থাকবে, নদীর অববাহিকায় তামাক চাষ নিষিদ্ধ, কৃষিজমিতে ক্ষতিকর কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার করা যাবে না এবং নদীর পাড়সংলগ্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।

হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘হালদা এখন দেশের গর্ব। হালদা শুধু একটি নদী নয়, এটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।

সরকারের এই ঘোষণা নদী রক্ষায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে। নদীতীরবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন করা হবে।

গেজেটে আরো বলা হয়েছে, নদীর গতিপথ পরিবর্তন বা পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটলে এলাকাভিত্তিক সীমারেখা ও বিধিনিষেধ সময়মতো হালনাগাদ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category