ব্যতিক্রমী কাজের জন্য নানা সময়ে খবরের শিরোনাম হন তিনি মার্কিন পপতারকা কেটি পেরি । সফলভাবে মহাকাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে এসে আবারও আলোচনার জন্ম দিলেন। আলোচিত এই সফরে তার সঙ্গী ছিলেন আরও পাঁচ নারী।
বিবিসি জানায় কেটি ও তার সঙ্গীদের নিয়ে বাংলাদেশ সময় গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম টেক্সাসের ব্লু অরিজিনের উড্ডয়নক্ষেত্র থেকে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও মার্কিন ধনকুবের জেফ বেজোসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের তৈরি নিউ শেপার্ড মহাকাশযানে করে মহাকাশের নিম্ন কক্ষপথে ভ্রমণ করেন তারা।
এই সফরে কেটি ছাড়াও আরও ছিলেন জেফ বেজোসের বাগ্দত্তা লরেন সানচেজ, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের সাংবাদিক গেইল কিং, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশ প্রকৌশলী আয়েশা বোয়ে, নাগরিক অধিকারকর্মী আমান্ডা নুয়েন ও চলচ্চিত্র প্রযোজক কেরিয়ান্ন ফ্লিন।
মহাকাশে থাকাকালীন তারা প্রায় তিন মিনিটের মতো ওজনহীনতায় ভেসে বেড়ান। তবে মহাকাশে ভ্রমণকারী এ পাঁচজন নারীকে নভোচারী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করবে না যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও মার্কিন সামরিক বাহিনী। কারণ, তাদের সবারই নভোচারী হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার অভাব রয়েছে।
মহাকাশ ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে কেটি পেরি জানান, তিনি এখন জীবনের সঙ্গে অত্যন্ত সংযুক্ত এবং ভালোবাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি অনুভব করছেন। এ অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি একটি গান লিখবেন।
তিনি আরো জানান, এটি ছিল সর্বোচ্চ উচ্চতা। এটি অজানার কাছে আত্মসমর্পণ। এ যাত্রা অনেক বেশি উপভোগ করেছেন তিনি। জানিয়েছেন আয়োজন প্রতিষ্ঠানটির কাছে কৃতজ্ঞতাও। এর আগে পৃথিবীতে ফিরে মাটিতে চুমু খান কেটি।
রয়টার্সের দেওয়া তথ্যমতে,১৮ বছর বয়স হলেই যে কেউ স্পেস ট্যুরে যাওয়ার যোগ্য। কোথাও ঘুরতে গেলে যেমন আগে থেকে টিকিট বুক করতে হয়, তেমনই এক্ষেত্রেও করতে হবে।
একটি দীর্ঘ ফর্ম ফিলআপ করতে হবে। খরচ বাবদ পুরো অর্থ তখনই দিয়ে দিতে হবে। যদি কোনও কারণে যাত্রা বাতিল হয়, তাহলে পুরোটাই ফেরত পাবেন।
তবে খরচের অঙ্কটা অনেক বড়। বেজোসের সংস্থার হিসেব বলছে, ২ লাখ ডলার থেকে সাড়ে ৪ লাখ ডলার পর্যন্ত গুনতে হয় সংক্ষিপ্ত এই মহাকাশ সফরের জন্য। যেটা কিনা শুধুমাত্র ধনকুবেরদের জন্যই আপাতত সম্ভব বলা যেতে পারে।