নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের চকজালাল গ্রামে দলিল উদ্ধারের নামে এক বিধবা নারীকে মারপিট ও তার বাড়িতে চুরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মৃত ঈমান আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম (৫০), তার স্ত্রী সাথী আক্তার ও ছেলে রাফসান পরিকল্পিতভাবে বিধবা খাতিজা বেওয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় রেজাউল ও রাফসান বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে খাতিজাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। সাথী আক্তারও তাকে লাথি মেরে ফেলে দেন। এতে খাতিজা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আসামিরা ঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর, দলিলপত্র ও স্বর্ণালঙ্কার (চেইন, বালা, কানের দুলসহ প্রায় দুই ভরি স্বর্ণ) এবং পুরনো টিন নিয়ে যায়। এসবের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাতিজার মেয়ে জান্নাতুন ফেরদৌস জানান, মায়ের চিৎকার শুনে তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে ছুটে গিয়ে মাকে উদ্ধার করেন এবং বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে তিনি বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
বদলগাছী থানার তদন্ত ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তে প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, “অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। সত্যতা মিললে আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে স্থানীয় আজিজ, খাতুনসহ এলাকাবাসীরা বলেন, “দলিল উদ্ধারের নামে একজন বিধবা নারীকে মারধর ও ঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর করা অমানবিক কাজ।
অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে দলিল চাইছি, তিনি দেননি। রাতে বাড়িতে প্রবেশ করা কিংবা মারপিটের অভিযোগ মিথ্যা।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী খাতিজা বেওয়া দাবি করেন, “দলিল উদ্ধারের নাম করে আমার ঘরে প্রবেশ করে আমাকে মাটিতে ফেলে মারপিট করেছে। দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, দলিল ও ঘরের জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে।