কক্সবাজারের টেকনাফের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ১৩ বছর বসয়ী এক শিশু কন্যা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনায় প্রভাবশালী পরিবারের অভিযুক্ত যুবককে রক্ষা করতে মরিয়া স্থানীয় বিএনপি নেতা। এই বিএনপি নেতা ও প্রভাবশালী পরিবার ঘটনাটি টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ।
জানা গেছে, টাকার বিনিময়ে মিমাংসা করতে ভুক্তভোগীর পিতা-মাতা রাজী না হওয়ায় অনবরত তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীন পরিবারটি দ্বীপ ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে টেকনাফের একটি পরিবারে।
গত ২৯ জুলাই দুপুরে সংঘটিত ঘটনাটি শনিবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা। শিশুটির মা জানিয়েছেন, তারা সেন্টমার্টিনের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। তার স্বামী জেলে। ২৯ জুলাই দুপুরে তাদের ১৩ বছর বয়সী শিশু কন্যাকে জিম্মি করে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী আলী হোসেনের ছেলে আবদুল্লাহ (৩৫)।
বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযুক্ত আবদুল্লাহর পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী। ঘটনার পর থেকে তার পরিবারসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরুল আলম এক লাখ টাকা দিয়ে আমাদের চুপ থাকতে বলেন। আমরা টাকার বিনিময়ে মেয়ের জীবন বিক্রি করতে রাজি হইনি। তাই অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হুমকির কারণে বর্তমানে দ্বীপ ছেড়ে পালিয়ে টেকনাফের একটি পরিবারে আত্মগোপনে রয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা দরিদ্র মানুষ। স্বামী জেলে। প্রভাবশালীদের ভয়ে থানায় যাওয়ার সাহস হচ্ছে না। মেয়েও অসুস্থ, গোপনে চিকিৎসা করাচ্ছি।
দ্বীপের একাধিক জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আলী হোসেনের ছেলে আবদুল্লাহ সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমীর এবং বর্তমান জেলা সদস্য আবদুর রহিম জিহাদীর ভাই। তাদের আরেক ভাই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহমান। দ্বীপে তারা প্রভাবশালী। অভিযুক্তকে বাঁচাতে হুমকি প্রদানকারী নুরুল আলম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
২৯ জুলাই ধর্ষণের খবরটি শুনেছেন বলে স্বীকার করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম। তিনি জানান, আবদুল্লাহ নামের এক যুবক জেলের কন্যাকে ধর্ষণ করেছে। বিষয়টি দ্বীপের সবাই জেনে গেছে। এখন পরিবারটি কোথাও নিরাপত্তা পাচ্ছেন না।
ঘটনার ব্যাপারে অভিযুক্ত আবদুল্লাহর সাথে আলাপ করার জন্য ফোন করা হলে ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, ফোন বন্ধ রেখে আবদুল্লাহ কৌশলে লুকিয়ে আছেন। তবে তার ভাই জামায়াত নেতা আবদুর রহিম জিহাদীকে কল করা হলে কল রিসিভ করেন এক নারী।
ওই নারীকে প্রতিবেদক পরিচয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানানো হলে তিনি বলেন, জিহাদী সাহেব ঘরে ফোন রেখে বাইরে গেছেন। ফিরলে আপনাকে কল করতে বলব। এরপর অনেকবার কল করা হলে কেউ তা রিসিভি করেনি। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সেন্টমর্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম বলেন, এটি কোনো ধর্ষণের ঘটনা নয়। যা হয়েছে মেয়ে ও ছেলের সম্মতিতে হয়েছে। অভিযুক্ত আবদুল্লাহসহ তার পরিবারের সকলেই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি আরও বলেন, ঘটনা ঘটার পর বিষয়টি মিমাংসার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবার তার কাছে এসেছেন। তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছেন।
মেয়ের মা ও বাবা তার কাছে বিচারের জন্য চাপ দেন উল্লেখ করে নুরুল আলম বলেন, টাকার বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি সত্য না। আমি তাদের আইনি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে আবদুল্লাহর স্ত্রীও ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আমি তাদের টেকনাফে গিয়ে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।
টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ধর্ষণের কোন ঘটনা কেউ মৌখিক বা লিখিতভাবে অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।