• রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • |
  • |
Headline :
গাইবান্ধায় বাসর ঘরে নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, স্বামীসহ আটক ৭ সাবেক ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও জাপা নিষিদ্ধের দাবিতে নীলফামারীতে বিক্ষোভ শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮ আবির্ভাব পুণ্য স্নান মহোৎসব শুরু পাবনায় বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র শিক্ষক পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ, পাবনা জেলা কমিটি গঠন আহ্বায়ক- রকিবুল, সদস্য সচিব বাপ্পী মেরুন পোশাকধারী হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করলেন রাশেদ খান রংপুরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাপা নেতাকর্মীদের অবস্থান এবার টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর মুকসুদপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ অপু বিশ্বাস সন্তান জন্মের পর চরম অর্থকষ্টে ভুগেছেন নির্বাচন ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের আগে হবে : প্রেসসচিব

গুপ্তচর তেলাপোকা আর এআই রোবট: বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫
পাবনার দুই কৃতি ব্যক্তিত্ব বিএসএসএফ-এর এডহক কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত

ইউরোপের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ জার্মানির হেলসিং। ইউক্রেইনে রাশিয়ার হামলার পর স্টার্টআপটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা গুন্ডবার্ট শার্ফের দৃষ্টিতে সবকিছু যেন বদলে গিয়েছিল।

চার বছর আগে সামরিক ড্রোন ও যুদ্ধক্ষেত্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই তৈরি করে এমন কোম্পানি শুরুর জন্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শার্ফকে কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল।

তবে কোম্পানিতে বিনিয়োগের বিষয়টি এখন শার্ফের জন্য কোনো সমস্যার বিষয় নয়। কারণ, গত মাসে মিউনিখে অবস্থিত তার কোম্পানির মূল্য দেড় গুণ বেড়ে বর্তমানে তা এক হাজার দুইশো কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

শার্ফ বলেছেন, “কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা খাতের প্রযুক্তি কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে ইউরোপ।”

কেবল গুন্ডবার্ট শার্ফের স্টার্টআপ নয়। গত কয়েক বছরে অনেক বদলেছে ইউরোপের প্রতিরক্ষা কেন্দ্রীক বোঝাপড়া। এ নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

‘ম্যাককিনজি অ্যান্ড কোম্পানি’র সাবেক অংশীদার শার্ফ বলেছেন, ইউরোপ সম্ভবত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এমন বড় এক পরিবর্তনের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেটি ম্যানহাটন প্রজেক্টের মতো হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে নিয়ে গিয়েছিল এই ম্যানহাটন প্রজেক্ট।

‘প্রতিরক্ষা সচেতন হয়ে উঠছে ইউরোপ’

ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানি কীভাবে এই মহাদেশকে পুনরায় সশস্ত্র করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চায় তা পরীক্ষা করতে দুই ডজনেরও বেশি কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স।

বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, জামার্নির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের সরকার মনে করছে, এআই ও নতুন স্টার্টআপ প্রযুক্তি তাদের দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সরকারি ঝামেলা কমিয়ে দিচ্ছে তারা, যাতে এসব স্টার্টআপ সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে ও প্রযুক্তিকে দ্রুত কাজে লাগাতে পারে।

নাৎসি সামরিক শাসনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শান্তির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে ছোট ও সতর্কভাবে পরিচালনা করে এসেছে জার্মানি। দেশটি মূলত আমেরিকার নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপরই নির্ভরশীল ছিল।

জার্মানির ব্যবসা স্বভাবগতভাবেই ঝুঁকির বিষয়ে খুব আগ্রহী না হওয়ার কারণে দেশটি বড় ধরনের পরিবর্তনের চেয়ে ছোট ছোট উন্নতি করাকে বেশি পছন্দ করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

তবে এখন আর এমনটি হবে না। মার্কিন সামরিক সাহায্য এখন আগের মতো নিশ্চিত না হওয়ায় ২০২৯ সালের মধ্যে নিজেদের সাধারণ প্রতিরক্ষা বাজেট তিন গুণ করে প্রতি বছর প্রায় ১৬ হাজার দুইশো কোটি ইউরো করার পরিকল্পনা করছে ইউক্রেইনের বড় সমর্থক জার্মানি।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, ওই অর্থ যুদ্ধ করার ধরন পুরোপুরি নতুনভাবে তৈরির কাজে ব্যয় করবে দেশটি।

জার্মানির নতুন বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্টার্টআপের মধ্যে একটি অংশ হচ্ছে হেলসিং। ট্যাংকের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রোবট, মনুষ্যবিহীন মিনি-সাবমেরিন থেকে শুরু করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত গুপ্তচর তেলাপোকা পর্যন্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করছে স্টার্টআপটি।

শার্ফ বলেছেন, “আমরা চাই ইউরোপ আবার শক্তিশালী ও দৃঢ় হয়ে উঠুক ও নিজের মেরুদণ্ড ফিরে পাক।”

একটি সূত্র বলেছে, জার্মানির পুরনো বড় কোম্পানির পাশাপাশি এখন কিছু ছোট কোম্পানিও সরকারকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে, যাদের মধ্যে আছে ‘রাইনমেটাল’ ও ‘হেনসোল্ট’-এর মতো প্রতিষ্ঠান। বড় কোম্পানির লক্ষ্য হচ্ছে, এখন আর নতুন উদ্ভাবন নয়। কারণ, তাদের আগে থেকেই প্রচুর পুরাতন প্রকল্পের কাজ বাকি রয়েছে। তাই ছোট আকারের বিভিন্ন কোম্পানি নতুনত্বের ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

রয়টার্সের কাছে থাকা জার্মানির ২৫ জুনের এক খসড়া আইন অনুসারে, জার্মানির সরকার নতুন এক আইন আনতে যাচ্ছে, যা ছোট ও অর্থের অভাবে সমস্যায় থাকা বিভিন্ন স্টার্টআপের জন্য সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণ সহজ করবে। এ আইনের মাধ্যমে আগে থেকে কিছু অর্থ পাবে এসব স্টার্টআপ। যাতে তাদের কাজ শুরুর বিষয়টি সহজ হয়। এতে তারা বড় বড় সরকারি প্রকল্পে অংশ নিতে পারবে ও নতুন ব্যবসার সুযোগও পাবে।

এ আইন অনুসারে, সরকার চাইলে টেন্ডার বা দরপত্র কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে পারবে।

অটোনোমাস বা স্বয়ংক্রিয় রোবট নির্মাতা ‘এআরএক্স রোবোটিক্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মার্ক উইটফেল্ড বলছেন, জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াসের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে বার্লিন এ নিয়ে কতটা গভীরভাবে নতুন করে চিন্তা করছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মার্ক বলেছেন, “জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমাকে বললেন, অর্থ আর কোনও অজুহাত নয়, এখন আমাদের কাছে অর্থ আছে। তার এমন মন্তব্য ছিল বড় এক পরিবর্তনের মোড়।”

জার্মানি এখন নেতৃত্বে

আবার রাজনীতির মঞ্চে ফিরে আসার পর থেকে নেটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ফলে জার্মানি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে মোট রাজস্বের প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ খরচ করবে তারা। এ বিষয়ে ইউরোপের বেশিরভাগ মিত্র দেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে জার্মানি।

বার্লিনের কর্মকর্তারা বলেছেন, কেবল আমেরিকান কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে না থাকতে চাইলে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে জার্মানি ও পুরো ইউরোপে বড় এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কোম্পানি গড়ে তোলার পথে এখনও অনেক বাধা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়, ইউরোপে বাজারটি খণ্ডখণ্ডভাবে বিভক্ত। ইউরোপের প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সরকারি ক্রয় নিয়ম-কানুন রয়েছে, যা কোনো চুক্তি পেতে হলে তাদের মানতে হয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

আগে থেকেই ‘লকহিড মার্টিন’ ও ‘আরটিএক্স’-এর মতো বড় ও মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো প্রতিরক্ষা কোম্পানি রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের। এ ছাড়া স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, যুদ্ধবিমান ও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদী যুদ্ধাস্ত্র তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের বড় সুবিধা রয়েছে।

২০১৫ সাল থেকেই প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন স্টার্টআপ যেমন– ড্রোন নির্মাতা ‘অ্যান্ডুরিল’, সফটওয়্যার কোম্পানি ‘প্যালান্টির’ ও ‘শিল্ড এআই’কে উৎসাহ দিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক চুক্তির অংশ দিয়ে এসব কোম্পানিকে বড় হতে সাহায্য করেছে সরকার।

এক্ষেত্রে এতদিন ধরে সরকার থেকে তেমন সহায়তা না পেয়ে পিছিয়ে ছিল ও ধুঁকছিল ইউরোপীয় বিভিন্ন স্টার্টআপ।

তবে মে মাসে ‘এভিয়েশন উইক’-এর এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, তুরস্ক ও ইউক্রেইন’সহ ইউরোপের ১৯টি শীর্ষ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের দেশ এই বছর সামরিক খাতে ক্রয়ে ১৮ হাজার ১০ কোটি ডলার ব্যয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র একাই ব্যয় করবে ১৭ হাজার পাঁচশ ৬০ কোটি ডলার। তবে ওয়াশিংটনের সার্বিক সামরিক ব্যয় আরও বেশি থাকবে।

জার্মানির নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সেক্টরের সংগঠন ‘বিডিএসভি’র প্রধান হ্যান্স ক্রিস্টোফ আটস্পোডিয়েন বলেছেন, একটি বড় সমস্যা হচ্ছে সেনাবাহিনীর ক্রয় ব্যবস্থা প্রধানত পুরানো ও প্রতিষ্ঠিত সরবরাহকারীদের জন্য তৈরি, যা নতুন প্রযুক্তির দ্রুতগতির চাহিদার সঙ্গে মেলে না।

এক বিবৃতিতে জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন প্রযুক্তি দ্রুত জার্মান সেনাবাহিনী বুন্দেসওয়েরের কাছে পৌঁছে দিতে ক্রয় প্রক্রিয়া দ্রুত করা ও বিভিন্ন স্টার্টআপকে আরও ভালোভাবে অন্তর্ভুক্তির জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা।

জার্মানির সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী ক্রয় সংস্থার প্রধান আনেটে লেহনিগক-এমডেন বলেছেন, ড্রোন ও এআই হচ্ছে নতুন ক্ষেত্র, যেগুলোতে জার্মানিকে অবশ্যই উন্নয়ন করতে হবে।

তিনি বলেছেন, “তারা যেসব পরিবর্তন যুদ্ধক্ষেত্রে আনছে, সেগুলো প্রথম মেশিনগান, ট্যাংক বা প্লেন আসার মতোই যুগান্তকারী।”

গুপ্তচর তেলাপোকা

বুন্দেসওয়েরের ‘সাইবার ইনোভেশন হাব’-এর প্রধান স্ভেন ওয়েইজেনেগার বলেছেন, ইউক্রেইন যুদ্ধ সামাজিক মনোভাবে পরিবর্তন এনেছে এবং প্রতিরক্ষা খাতে কাজের জন্য মানুষের নেতিবাচক ধারণাও দূর করেছে।

“ইউক্রেইনে আক্রমণের পর থেকে নিরাপত্তা বিষয়কে নিয়ে নতুন ধরনের খোলামেলা মনোভাব গড়ে তুলেছে জার্মানি।”

ওয়েইজেনেগার বলেছেন, এখন প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টি লিংকডইন ‘অ্যাড রিকোয়েস্ট’ পাচ্ছেন তিনি, যেখানে ২০২০ সালে হয়ত সপ্তাহে কেবল দুই থেকে তিনটি পেতেন। এসব অনুরোধ আসছে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ধারণা থাকে।

এসব উন্নয়নের অধীন কিছু ধারণা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মতো শোনাতে পারে। যেমন ‘সোয়ার্ম বায়োট্যাকটিক্স’ কোম্পানির তৈরি সাইবর্গ তেলাপোকা, যেগুলোর ছোট ছোট বিশেষ ধরনের ব্যাকপ্যাক রয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যামেরা ব্যবহার করে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এরা।

বিদ্যুৎ সংকেতের মাধ্যমে দূর থেকে এসব তেলাপোকার চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে মানুষ। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রতিকূল পরিবেশে নজরদারির তথ্য সরবরাহ করা, যেমন শত্রুর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য মিলবে এতে।

‘সোয়ার্ম বায়োট্যাকটিক্স’ কোম্পানির সিইও স্টেফান উইলহেল্ম বলেছেন, “আমাদের এসব বায়ো রোবট জীবন্ত পোকামাকড়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেগুলো স্নায়ু উদ্দীপনা, সেন্সর ও সুরক্ষিত যোগাযোগ প্রযুক্তি দিয়ে সাজানো রয়েছে। এগুলোকে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে জোট বেঁধেও চলতে পারে এরা।”

রয়টার্স লিখেছে, ২০ শতকের প্রথমার্ধে ব্যালিস্টিক মিসাইল, জেট বিমান ও নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র’সহ অনেক সামরিক প্রযুক্তিতে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা রেখেছিলেন জার্মান বিজ্ঞানীরা, যেগুলো পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী মানদণ্ডে পরিণত হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর জার্মানিকে সামরিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় এবং তাদের এই বৈজ্ঞানিক প্রতিভা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

নাৎসিদের জন্য প্রথম ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করেছিলেন ওয়েরনার ফন ব্রাউন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে এমন শত শত জার্মান বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীর একজন ছিলেন তিনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় কাজ করেন ও এমন রকেট তৈরি করেন ওয়েরনার, যা অ্যাপোলো মহাকাশযানকে চাঁদে নিয়ে যায়।

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক শক্তিশালী চালক হিসেবে কাজ করছে প্রতিরক্ষা খাতে উদ্ভাবন। ইন্টারনেট, জিপিএস, সেমিকন্ডাক্টর ও জেট ইঞ্জিনের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রথমে সামরিক গবেষণা থেকে এসেছে, এরপর সাধারণ মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে সেগুলো।

উচ্চ জ্বালানি মূল্যের চাপ, রপ্তানির চাহিদা কমে যাওয়া ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে জার্মানির ৪.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গত দুই বছরে ছোট হয়েছে। এ অবস্থায় সামরিক গবেষণা বাড়ানো দেশটির অর্থনীতিকে চাঙা করে তুলতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category