যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাবের আড়ালে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তথ্য পেয়েছে ইরানি গোয়েন্দারা। ইরানের সরকারি এক কর্মকর্তার বরাতে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি।
ইরানের ওই কর্মকর্তা প্রেস টিভিকে জানিয়েছেন, আমাদের গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওয়াশিংটন শান্তি নয়, যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য আলোচনা চায়। যদি তাই হয় তাহলে সময় নষ্ট করার কোনো কারণ দেখছি না বরং আমরা সংঘাতের জন্য প্রস্তুতির ওপর মনোনিবেশ করব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান মনে করে আলোচনার উদ্দেশ্য হলো পরবর্তী যুদ্ধে ইসরায়েলের দুর্বলতা পুষিয়ে নিতে ইরানকে নিরস্ত্র করা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো নতুন আলোচনার ক্ষেত্রে অবশ্যই গুরুতর ও বাস্তবসম্মত নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেন নিশ্চিত করা যায় যে প্রক্রিয়াটি নিরাপত্তা প্রতারণার আবরণ নয়।
তিনি আলোচনার জন্য মূল শর্তগুলো তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং এর গণবিধ্বংসী অস্ত্রের প্রতি গুরুত্ব সহকারে মনোযোগ দেওয়া। আলোচনার অন্যান্য শর্ত হলো- ইসরায়েলের বিশ্বাসযোগ্য শাস্তি এবং ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া; অন্যথায় এই আলোচনা আবারও যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, এই অঞ্চলের কেউই ইরানের নিরস্ত্রীকরণ মেনে নেবে না, যখন এই ধরনের রক্তপিপাসু (ইসরায়েল) সরকার প্রতিদিন নিজেদের অস্ত্র ভান্ডার আরও শক্তিশালী করছে।
তিনি আরও বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সমস্যা এবং আমরা জানি না তারা কীভাবে এটি সমাধান করতে চায়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে তেহরান ও ওয়াশিংটন শিগগিরই আলোচনায় বসতে যাচ্ছে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, আলোজনার আগে আমাদের অবশ্যই এই নিশ্চয়তা পেতে হবে উইটকফ শান্তি জন্য একজন মধ্যস্থতাকারী, আগুনে ঘি ঢালতে আসনেনি। এই ধরনের নিশ্চয়তা প্রদান করা খুবই কঠিন, তবে আমরা আরও একটি সুযোগ দিতে চাই এবং এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য শুনতে চাই। এই বিষয়ে তাদের বাস্তব পদক্ষেপগুলো দেখতে প্রস্তুত ইরান।