• শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১২:১৮ অপরাহ্ন
  • |
  • |

প্রথমবারের মতো ‘খাইবার‑শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান: ইসরায়েল লক্ষ্যবস্তু, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

আল মুস্তাসিম নবী নিকু / ১০৬ Time View
Update : রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫
খাইবার‑শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান: ইসরায়েল লক্ষ্যবস্তু

প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে অত্যাধুনিক ‘খাইবার‑শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মোড়, যা শুধু ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তাকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

২২ জুন রবিবার স্থানীয় সময় বিকেলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) একযোগে প্রায় ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে অন্তত দুটি ‘খাইবার‑শেকান’ ছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষক সংস্থা Jane’s Defence Weekly।

‘খাইবার-শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র: প্রযুক্তির দিক থেকে বিপ্লব

ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘খাইবার‑শেকান’ একটি মধ্য-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (MRBM)। এটি সর্বপ্রথম ২০২২ সালে উন্মোচিত হলেও এই প্রথম সরাসরি ব্যবহার করা হলো কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে।

প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:

পাল্লা: প্রায় ১,৪৫০ কিলোমিটার

ওজন: ৬.৫ টন

যুদ্ধাস্ত্র: প্রায় ৫৫০ কেজি বিস্ফোরক ধারণক্ষমতা

প্রপালশন: কঠিন জ্বালানি চালিত

পরিচালনা: উচ্চ গতিতে টার্মিনাল ম্যানিউভার করে, ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সক্ষম

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিসাইলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর কম রাডার ট্রেস এবং চতুর মুভমেন্ট কৌশল— যা একে Iron Dome বা David’s Sling এর মত আধুনিক ইসরায়েলি ডিফেন্স সিস্টেমকে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করে।

হামলার পটভূমি ও ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া

এই হামলা ঘটে এমন এক সময় যখন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা ফরদু, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান কেন্দ্রগুলোতে সফল স্ট্রাইক সম্পন্ন করেছি।”

ইরান এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায়, “Operation True Promise‑III” নামক সামরিক অভিযানের আওতায় এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তেলআবিব, হাইফা, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার চিহ্নিত ছিল।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, তারা বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে অন্তত ২১ থেকে ৮৬ জন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আংশিক বা পুরোপুরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘ মহাসচিব গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়া ও চীন উভয়েই ইরানের “আত্মরক্ষার অধিকার” স্বীকার করলেও, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের এই পদক্ষেপকে “উস্কানিমূলক ও বিপজ্জনক” বলেছে।

বিশ্লেষণ: নতুন পর্বে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খাইবার‑শেকান ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মধ্য দিয়ে ইরান বোঝাতে চাচ্ছে যে তাদের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এবং আধুনিক।

এটি শুধু সামরিক অস্ত্র প্রয়োগ নয়, বরং কৌশলগতভাবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা স্তরকে চ্যালেঞ্জ করা — এমনকি ইঙ্গিত দেয়া যে প্রয়োজনে পারমাণবিক-ঘনিষ্ঠ প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সতর্ক করেছেন যে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বার খুলে দিতে পারে। পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন ইসরায়েল এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category