প্রথমবারের মতো চীনে আম রপ্তানি হচ্ছে। প্রথম দফায় আজ বুধবার দুপুরে ১০ টনের আমের চালান চীনে যাবে। এ জন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে চীনে কখনো আম রপ্তানি করা হয়নি।
গত কয়েক মাস আগে চীনে আম রপ্তানি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিছুদিন আগে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়। এ মৌসুমে সব মিলিয়ে ১০০ টন আম রপ্তানি হবে। প্রথম চালানে সাতক্ষীরা, যশোর অঞ্চলের আম রপ্তানি করা হচ্ছে। কয়েকজন রপ্তানিকারক মিলে ১০ টন আম রপ্তানি করছেন বলে জানা গেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম দফায় আজ ঢাকা থেকে ১০ টন আম চীনে রপ্তানি হবে। ধীরে ধীরে বাকি আমও রপ্তানি করা হবে।
এদিকে আজ সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে এ বছরের আম রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল চীনের রাষ্ট্রদূত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের বাগান পরিদর্শন করেছিলেন। এরপরই আম রপ্তানির প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে চীনে আমসহ কিছু কৃষিপণ্য রপ্তানির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণসহ নানা কারণে ছয় বছর পর দেশটিতে আম রপ্তানির উদ্যোগ সফল হতে চলেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে আম উৎপাদিত হয়েছে ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩২১ টন। বাংলাদেশ থেকে গত বছর ২১টি দেশে আম রপ্তানি করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ইতালি ও সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ রয়েছে।