এখানকার রুই জাতীয় মাছ জেনেটিক্যালি বিশুদ্ধ। এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত নদীতে প্রজননের ফলে প্রচুর নিষিক্ত ডিম পাওয়া যায়। একই সঙ্গে নদীটি বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিনেরও আবাসস্থল। হালদা নদী ও এর তীরবর্তী ২৩ হাজার ৪২২ দশমিক ২৮ একর এলাকা হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, হালদা নদী ও আশপাশের এলাকায় বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেগুলো হলো নদী থেকে কোনো ধরনের মাছ বা জলজ প্রাণী ধরা বা শিকার করা যাবে না, মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সময়েই কেবল নিষিক্ত ডিম আহরণ করা যাবে, প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, নদীর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা যাবে না, মাছ, ডলফিন বা অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর কাজ করা নিষিদ্ধ, বসতবাড়ি বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের পয়ঃবর্জ্য নদীতে ফেলা যাবে না, নদীর বাঁক কেটে সোজা করা যাবে না, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৭টি সংযুক্ত খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ, নতুন রাবার বাঁধ বা কংক্রিট বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না, তদারকি কমিটির অনুমতি ছাড়া পানি শোধনাগার বা সেচ প্রকল্প থেকে পানি উত্তোলন করা যাবে না, দেশি বা বিদেশি কেউ অনুমতি ছাড়া গবেষণা পরিচালনা করতে পারবে না, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না, কর্ণফুলী মোহনা থেকে নাজিরহাট সেতু পর্যন্ত ভারী ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ, হালদা ও এর শাখা নদীতে বালুমহাল ইজারা দেওয়া যাবে না এবং ড্রেজার ব্যবহার বন্ধ থাকবে, নদীর অববাহিকায় তামাক চাষ নিষিদ্ধ, কৃষিজমিতে ক্ষতিকর কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার করা যাবে না এবং নদীর পাড়সংলগ্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘হালদা এখন দেশের গর্ব। হালদা শুধু একটি নদী নয়, এটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।
সরকারের এই ঘোষণা নদী রক্ষায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে। নদীতীরবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন করা হবে।
গেজেটে আরো বলা হয়েছে, নদীর গতিপথ পরিবর্তন বা পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটলে এলাকাভিত্তিক সীমারেখা ও বিধিনিষেধ সময়মতো হালনাগাদ করা হবে।