• শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন
  • |
  • |

স্কুলে শিক্ষার্থীরা ও ক্লাসে শিক্ষকদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

স্পষ্টবাদী ডেস্ক / ২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
স্কুলে শিক্ষার্থীরা ও ক্লাসে শিক্ষকদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
স্কুলে শিক্ষার্থীরা ও ক্লাসে শিক্ষকদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

অংশীজনদের সর্বসম্মতিক্রমে ‘কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন আনতে পারবে না এবং কোনো শিক্ষক মোবাইল ফোন নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না’-সহ ১৩টি নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য চাঁদপুরের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক পত্রে ১৩ নির্দেশনা প্রতিপালনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

জানা গেছে, সর্বশেষ এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের পর চাঁদপুর জেলার সর্বমহলে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয় এবং এমন পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় নির্ধারণের নিমিত্তে গত ১২ আগস্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে—কোনো শিক্ষার্থী নিজ বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন আনতে পারবে না এবং কোনো শিক্ষক মোবাইল ফোন নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী একাধারে তিন দিন অনুপস্থিত থাকলে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনে তার বাড়ি পরিদর্শন করতে হবে।

শিক্ষকেরা শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর ন্যূনতম ১৫ মিনিট আগে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হবেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান তা নিশ্চিত করবেন। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে বিধিমতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর আগে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ অনুসরণ করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। প্রতি মাসে শ্রেণিভিত্তিক অভিভাবক সমাবেশ বা প্যারেন্টস ডে আয়োজন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হোমওয়ার্ক প্রদান করতে হবে এবং ক্লাসে হোমওয়ার্ক জমাদানে ছাত্রছাত্রীদের বাধ্য করতে হবে। বিদ্যালয়ের ডিজিটাল ল্যাব এবং অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যবহার বিড়াতে হবে। শ্রেণি কার্যক্রমের জন্য শিক্ষক নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দক্ষতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বিষয়ভিত্তিক ক্লাস টেস্ট নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে। মাসে কমপক্ষে দুবার প্রতি বিষয়ে ক্লাস টেস্ট নিতে হবে। সিলেবাস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিদ্যালয়ের উদ্যোগে প্রণয়ন করতে হবে।
বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার অর্থাৎ, হালকা নাশতা প্রদানের জন্য অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে হবে। প্রতিদিন টিফিন ব্রেকের পর হাজিরা গ্রহণ করতে হবে। টিফিন ব্রেকের পর অনুপস্থিতির তথ্য অভিভাবককে অবহিত করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে আসনসংখ্যার বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন আরও বলেন, প্রথমত শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। ন্যূনতম এই ১৩ নির্দেশনা প্রতিপালন করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ও গুণগত মান অনেকটা নিশ্চিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category