• শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন
  • |
  • |

সিলেটে নতুন রেকর্ড, মে মাসে ২৩৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত

স্পষ্টবাদী ডেস্ক / ১৩৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫
সিলেটে নতুন রেকর্ড, মে মাসে ২৩৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিলেটে অস্বাভাবিক হারে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। এবার মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৩৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা বিগত ৭০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৫৭০ মিলিমিটার। ১৯৮৮ সালের মে মাসে সিলেটে সর্বোচ্চ ১১৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ এটি ছিল মে মাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। সেটি ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয় চলতি বছরে। গত মে মাসে মোট বৃষ্টি হয়েছে ১৯০৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার। এই মাসে ২৪ দিন বৃষ্টি হয়েছে।

মাসের হিসাব ছাড়াও কেবল গত ৩১ আগস্ট ২৪ ঘণ্টায় ৪০৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিগত ৭০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টির নতুন রেকর্ড।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ক্লাইমেট চেঞ্জ বিভাগের সাবেক প্রধান ও জাপানের কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং রিসার্চার সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ১৯৫৬ সাল থেকে সিলেট আবহাওয়া অফিসে বৃষ্টি ও তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সারা মে মাসজুড়ে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা অতীতের কোনো মে মাসে হয়নি। একদিনে ৪০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেরও ইতিহাস নেই।

এবার একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৮ সালের ২০ জুন সিলেটে একদিনে ৩৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সেটি ২০০০ সাল পর্যন্ত ছিল সর্বোচ্চ। সেই বছরের ১২ জুন সিলেটে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। ২৪ ঘণ্টায় ৩৬২ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। ২৫ বছর পর্যন্ত এটিই ছিল একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টি। গত ৩১ মে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির নতুন রেকর্ড দাঁড়ায় ৪০৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার।

এছাড়াও একদিনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টির হয়েছে, ১৯৮৭ সালের আগস্টে ৩০২ মিলিমিটার, ২০২২ সালের ১৮ জুন ৩০৩ মিলিমিটার এবং ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ৩০৭ মিলিমিটার।

হঠাৎ করে অতিবৃষ্টির কারণে সিলেট নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। গত ৩১ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা সিলেট নগরজুড়ে। সড়ক, বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পানি উপচে প্রবেশ করে। এতে দুর্ভোগে পড়েন শত শত মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের সাবেক প্রধান সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, সচরাচর প্রি-মনসুন অর্থাৎ, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সিলেটে ৮শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয় না। জুনের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সপ্তাহে যখন মৌসুমি বায়ু সেটআপ তখন বৃষ্টিপাত একটু বেশি হয়। এবার সাগরে নিম্নচাপ এবং মৌসুমি বায়ু সেটআপ হয়েছে একটু আগেই। তাই, সিলেট এবং এর আশপাশের এলাকা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা এবং উপরের দিকে বৃষ্টি হয়েছে বেশি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category