সোমবার (১৭ নভেম্বর) মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার (১৬ নভেম্বর) দেখা গেছে, সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনালের ভেতরে-বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি চালাচ্ছেন। টহল দিচ্ছেন পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে প্রসিকিউশন (অ্যাডমিন)-এর দায়িত্বে থাকা প্রসিকিউটর গাজী মোহাম্মদ মনোয়ার হোসাইন তামিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রায় ঘিরে নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। তারাই বলতে পারবেন কী করছেন নিরাপত্তার বিষয়ে।’
এদিকে, রায়ের আগের দিন আজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি।
সোমবার রায় ঘোষণা সরাসারি সম্প্রচার করবে বিটিভি। এছাড়া অনলাইনে ট্রাইব্যুনালের পেজ থেকেও সরাসরি প্রচার করা হবে। রায় ঘোষণা সামনে রেখে নিজেদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এমন পরিস্থিতিতে গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বিভিন্ন মহাসড়কসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আজ সকালে মগবাজারের ইস্কাটনে ককটেল ছোড়া হয়। এতে আহত হন একজন।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়তি নিরাপত্তা রেখেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তারা বলছে, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর রয়েছে পুলিশ সদস্যরা। গত ২৪ ঘণ্টায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এর বাইরেও যেকোনো নাশকতা এবং অপরাধ মোকাবিলায় নাগরিকদেরও সোচ্চার ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতারাও মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি গোষ্ঠী এ পরিস্থিতিকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীসহ আট দল রায় উপলক্ষে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। আজ আট দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।