• শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৬:০২ অপরাহ্ন
  • |
  • |

শিশু জুঁই হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল বড়াইগ্রাম উপজেলা

রবিউল রনি / ১১৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫

ধর্ষণের পর মাদরাসা ছাত্রী আকলিমা আরা জুঁই (৭) কে শ্বাসরোধে হত্যা ও অ্যাসিড দিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো বড়াইগ্রাম উপজেলার মানুষ। নৃশংস এই হত্যাকান্ডের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন অথবা কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় অসন্তোস প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। এই জঘন্য হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রামের  বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের ব্যনারে কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকার সাধারন মানুষ।

বুধবার বিকাল চারটায় খুনীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে জুঁই’য়ের নিজ গ্রাম গাড়ফা বাজারে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাড়ফা সমাজকল্যাণ পরিষদের আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনকালে জেলা ও উপজেলা বিএনপি ও জামায়াত নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাদের দাবির প্রতি একাত্নতা ঘোষণা করেন।

এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ, জেলা বিএনপির সদস্য ও পিপি আব্দুল কাদের মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব আলী আকবর, সাবেক পৌর মেয়র ইসাহাক আলী, সাবেক উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মোল্লা, জামায়াত নেতা আতিকুল ইসলাম ও মাওলানা হাসানুল বারী, গাড়ফা সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি হাসান মাহমুদ ও কোষাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম এবং জুঁইয়ের শিক্ষক মাওলানা আল আমিন বক্তব্য রাখেন।

এর আগে উপজেলার বনপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বনপাড়া সেন্ট যোসেফ্স স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে খুনীদের বিচার দাবিতে পৃথক পৃথক বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুঁইয়ের পরিবারের জন্য ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি এই ঘটনায় ন্যায়বিচার পেতে শিশুর পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে তারেক রহমানের নির্দেশে জেলা বিএনপির সদস্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল কাদের মিয়ার নেতৃত্বে একটি টিম ওই শিশুর বাড়িতে গিয়ে এ সহায়তা পৌঁছে দেন।

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, শিশুটির বাড়ি বড়াইগ্রামে হলেও লাশটি চাটমোহরের সীমানায় পাওয়া গেছে। এ কারণে চাটমোহর থানায় মামলা হয়েছে। তবে দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশও যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে।

চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরজুমা আক্তার বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। হত্যার কারণ ও আসামীদের সনাক্তে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

উল্লেক্ষ্যে, সোমবার দাদীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয় প্রবাসী জাহিরুল ইসলামের শিশুকন্যা জুঁই।

পরদিন বাড়ির অদুরে একটি ভুট্টা খেতে তার বিবস্ত্র ও মুখমণ্ডল অ্যাসিডে ঝলসানো লাশ পাওয়া যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category