• শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
  • |
  • |

রংপুরের বাজারে বেড়েছে সবজি, পেঁয়াজ, ডিম ও মাছের দাম

শফিউজ্জামান আতা, রংপুর : / ৪৬ Time View
Update : রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫
রংপুরের বাজারে বেড়েছে সবজি, পেঁয়াজ, ডিম ও মাছের দাম

টানা বৃষ্টি আর কৃষকের হাতে পেঁয়াজের মজুত কমে যাওয়া-দুইয়ের সুযোগে রাতারাতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে পেঁয়াজ সিন্ডিকেট। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন আড়ৎদার, এজেন্ট, বেপারি ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। যে পেঁয়াজ দুই সপ্তাহ আগেও ৪৫-৫৫ টাকায় মিলত, তা এখন বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায়।

ভোক্তারা বলছেন, রংপুর সিটি বাজারে সরবরাহ ও উৎপাদন কম থাকার কারণে বেড়েছে সবজি, পেঁয়াজ, ডিম ও মাছের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম বেড়েছে গড়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।
রবিবার (১৭ আগস্ট) রংপুর সিটি বাজার, চকবাজার সহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা কেজি; যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। এই হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের মুগরির ডিম বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। এই হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

রংপুর সিটি বাজারে সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মিষ্টি কুমড়া ও পেঁপে বাদে ৬০ টাকার কেজির নিচে কোনো সবজি নেই। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, দেশি শশা ১০০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, গাজর (এলসি) ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৭০, চিচিঙ্গা ৬০, বরবটি ১০০ থেকে ১২০, ঢেঁড়শ ৮০, জালি কুমড়া ৬০, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৩০, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫, পটল ৬০, কাঁকরোল ৮০, কচুরমুখী ৬০ ও মুলা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রংপুর সিটি বাজারে মাছের বাজারে এখন মাঝারি সাইজের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। পাঙাস কেজি ২০০ থেকে ২৫০, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০, মাঝারি সাইজের কৈ ২৮০ থেকে ৩০০, দেশি শিং ৭০০ থেকে ৭৫০, বড় সাইজের পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০, চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০, দেশি পাঁচমিশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ এবং এক কেজি ওজনের ওপরে ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে।

রংপুর সিটি বাজারের মাছ বিক্রেতারা বলছেন, নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলেদের মাছ কম পাওয়া ও উজানের পানিতে খামারিদের পুকুর ও ঘের তলিয়ে যাওয়ার কারণে মাছের দাম বেড়েছে। আগামী এক থেকে দেড় মাস মাছের বাজারে দাম বেশি থাকতে পারে।

রংপুরে খুচরা বাজারে চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আলুর কেজি ৩০ থেকে ৩৫, রসুন ২০০ থেকে ২২০, দেশি আদা ২৩০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি ফার্মের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০, সোনালি ৩২০ থেকে ৩৫০, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

রংপুর সিটি বাজারে বাজার করতে আসা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজকে বাজারে সব কিছুর দাম বাড়তি। ডিম, মাছ, সবজি, পেঁয়াজ সব বাড়তি। যেদিকে যাই সেদিকেই দাম বেশি।

তিনি আরও বলেন, বাজারের হিসাব মিলাতে পারছি না। বাধ্য হয়ে কম কম নিতে হচ্ছে। অন্তবর্তী সরকারকে বলব, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

রংপুর সিটি বাজারে মুদি ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, হঠাৎ পেঁয়াজের দাম এক লাফে ৪০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। এটা আমাদের জন্যও বিব্রতকর। ক্রেতাদের কথা শুনতে হয়। আমাদের তো কোনো হাত নেই। আমরা পাইকারি কিনে সামান্য লাভে ছেড়ে দেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category