সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গর্ভে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সাগর আহম্মেদের বিরুদ্ধে। এতে তিন মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী সাথী খাতুন (২০)। তিনি এই ঘটনায় স্বামীসহ শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে সলঙ্গার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আগরপুর গ্রামের আব্দুল হান্নান আকন্দের মেয়ে সাথী খাতুনের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে সাগর আহম্মেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দিকে সংসার ভালোই চলছিল।
সম্প্রতি সাগর আহম্মেদ বিদেশে যেতে চেয়ে স্ত্রী সাথীর কাছে চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এই টাকার জন্য প্ররোচনা দেয় সাগরের বাবা-মাও। কিন্তু সাথী রাজি না হওয়ায় তার ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। স্বামী তাকে তালাক দিয়ে অন্য নারীকে বিয়ের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন সাথী।
গত ৮ জুলাই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাগর আহম্মেদ অন্তঃসত্ত্বা সাথীর পেটে লাথি মেরে বিছানা থেকে ফেলে দেন। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক জানান, সাথীর গর্ভে থাকা তিন মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।
চিকিৎসা শেষে সোমবার (১৪ জুলাই) সাথী খাতুন তার স্বামী সাগর আহম্মেদ, শ্বশুর আব্দুল আজিজ ও শাশুড়ি নূরজাহান বেগমকে অভিযুক্ত করে সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী সাথী খাতুন অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার মা মোছা. সাজেদা খাতুন বলেন, আমার মেয়ে খুবই অসুস্থ। আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য অনেক নির্যাতন করেছে। আমার মেয়ের জীবন নিরাপদ নয়, গর্বের সন্তানটিও নষ্ট করে ফেলেছে।
অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সলঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, অভিযোগটা এইমাত্র পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।