মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এক চমকপ্রদ মোড় এসেছে। ইরান একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এই ঘোষণাটি এসেছে এমন এক সময়, যখন ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা এবং পাল্টা-পাল্টি হামলার ঘটনা ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করেছে।
সিনিয়র এই ইরানি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “আমরা একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে আগ্রহী, যদি ইসরায়েলও সমপর্যায়ের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারকে সম্মান করে।”
সাম্প্রতিক পটভূমি
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজা, লেবানন সীমান্ত এবং সিরিয়ায় ইরানি ও ইসরায়েলি মিত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে। ইসরায়েলের বিমান হামলায় সিরিয়ায় ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের ঘাঁটি ধ্বংস হওয়াসহ বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে তার শক্তির জানান দিয়েছে।
শান্তির ইঙ্গিত
জাতিসংঘ এবং বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় একটি প্রস্তাবিত চুক্তি তৈরি হয়েছে, যার মূল বিষয়বস্তু হলো –
সীমান্তে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ,
মানবিক সহায়তার নির্বিঘ্ন প্রবাহ নিশ্চিত করা,
গাজায় নিরস্ত্রীকরণ পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানো।
ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই সবকটি বিষয়ের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
তবে এখনো পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সম্পর্কে তাদের অবস্থান জানায়নি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকবে, ততক্ষণ আমরা আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখব।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া