এই দিনে আমরা হারিয়েছিলাম শোষিত মানুষের অবিচল কণ্ঠস্বর, আফ্রো-এশিয়া-ল্যাটিন আমেরিকার নিপীড়িত জনতার অনুপ্রেরণা, মেহনতি কৃষক-শ্রমিকের অক্লান্ত বন্ধু—মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে। তাঁর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা শুধু একজন রাজনীতিবিদকে স্মরণ করি না বরং স্মরণ করি এক মহামানবকে, যার পুরো জীবনটাই ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিবেদিত।
মওলানা ভাসানী ছিলেন এমন এক নেতা, যার রাজনীতি শুরু এবং শেষ হয় মানুষের কল্যাণে। তিনি ছিলেন সৎ, নির্ভীক, আপসহীন, সহজ-সরল ও মানবিকতার প্রতিমূর্তি। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে ছিল শোষণমুক্ত সমাজ, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র এবং ন্যায়ভিত্তিক মানবিকতার দৃঢ় অঙ্গীকার। আজ যখন আমরা সামাজিক বৈষম্য, রাজনৈতিক বিভাজন, দুর্নীতি ও অবিচারের মুখোমুখি—তখন ভাসানীর চেতনা আমাদের সামনে পথনির্দেশকের মতোই দাঁড়িয়ে আছে।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জন্ম ১৮৮০ সালের দিকে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে। অল্প বয়সেই তিনি বাবা-মাকে হারান, জীবনের শুরুটা হয় কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে সংগ্রাম করে। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও তার কর্মক্ষেত্র হয়ে ওঠে সমাজসংগ্রাম—মানুষের মুক্তির রাজনীতি।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সরব উপস্থিতি, কৃষক-শ্রমিক আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব এবং পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদী উচ্চারণ তাঁকে ‘মজলুম জননেতা’ উপাধিতে ভূষিত করে। অসহায় মানুষের জন্য তাঁর দরজা ছিল সবসময় খোলা। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পান।
১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ পাকিস্তানি শাসনের অবসানের বার্তা বহন করেছিল। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)–এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বাম-প্রগতিশীল রাজনীতির এক বিশিষ্ট দিকনির্দেশক হয়ে ওঠেন। সারাটি জীবন তিনি রাজনীতির ক্ষমতাকেন্দ্রে যাননি; বরং মাঠে-মাঠে, মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করেছেন। ১৯৭৬ সালের ১৭ই নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মওলানা ভাসানীর রাজনীতি: নজিরবিহীন সততা ও নৈতিকতা আজকের রাজনীতিতে যেখানে ক্ষমতা ও ব্যক্তিস্বার্থ প্রধান হয়ে উঠেছে, সেখানে ভাসানীর রাজনীতি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি বলতেন— “ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য রাজনীতি।”
ভাসানী স্মৃতি সংসদ কর্তৃক আয়োজিত ৪৯
১৭ই নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যা ৬.০০ টায় পাবনা প্রেসক্লাব ভিআইপি মিলনায়তনে ভাসানী স্মৃতি সংসদ কর্তৃক আয়োজিত ৪৯তম মৃত্যু বার্ষিকী স্মরণে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে মাওলানা ভাসানী স্মৃতি সংসদ এর পাবনা জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মাহতাবউদ্দিন বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে ও স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন শাহীন এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল আজিজ, পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ মান্নান মাস্টার
এসময় বক্তারা মাওলানা ভাসানীর জীবনদর্শন অনুসরণ করি। তবেই আমাদের দেশ তথা জনগনের মুক্তি মিলবে। এসময় উপস্থিত থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন, জেএসডির সভাপতি মোজাম্মেল হক কবির, পাবনা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেহানুল ইসলাম বুলাল, পাবনা জজ কোর্টের আইন কর্মকর্তা, পাবনা সদরের সাবেক সাব রেজিস্ট্রার হাফিজুর খান লাভলু, পাবনা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শবনম মন্জিলা সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোঃ জহুরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দল পাবনা জেলা শাখার এক নল যুগ্ম-আহবায়ক এসকে সাগর, জেলা ছাত্রদলের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আল মুস্তাসিম নিকু সহ ভাসানী স্মৃতি সংসদ এর বিভিন্ন ইউনিট এর নেতাকর্মীবৃন্দ।