টাইমস তাদের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের কাজের সময়সূচী সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে বলেছে, “ট্রাম্প মোদীকে বলেছিলেন চলতি বছরের পরের দিকে কোয়াড সম্মেলনের জন্য তিনি ভারত সফরে যাবেন। কিন্তু শরতে তার এ ধরনের ভ্রমণের কোনো সূচী আর নেই।” তবে নিউ ইয়র্ক টাইসের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। চলতি বছরের পরের দিকে ভারতে কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটন ও দিল্লির মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প ও মোদীর সম্পর্কের ‘সুতো আলগা হয়ে যাওয়া’ এর কারণ বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মে-তে ভারত ও পাকিস্তানের চার দিনের সংঘাতের পর ট্রাম্প দাবি করেন তার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে; কিন্তু ভারত তার এ দাবি তা প্রত্যাখ্যান করে। টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ ‘সমাধান’ করেছেন বলে বারবার দাবি করতে থাকলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষুব্ধ হন। আর তা ছিল শুরু মাত্র।”
ভারত সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন ট্রাম্প: নিউ ইয়র্ক টাইমস
মোদী ট্রাম্পকে নিয়ে ‘ধৈর্য হারাচ্ছিলেন’ বলে লিখেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। জুনে কানাডার ক্যানান্যাস্কিসে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মোদী উভয়ের যোগ দেন। সেখানে সম্মেলনের ফাঁকে তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প আগেভাগে দেশে ফিরে যাওয়ায় সে বৈঠক আর হয়নি। পরে ১৭ জুন দুই নেতা ৩৫ মিনিট ধরে টেলিফোনে কথা বলেন।
এই ফোনালাপের সময় ট্রাম্প আবারও বলেন, সামরিক উত্তেজনা বন্ধ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত এবং পাকিস্তান তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে চলেছে। টাইমস বলেছে, “এই ফোনালাপের বিষয়ে জ্ঞাত ব্যক্তিরা বলেছেন, সেখানে সরাসরি ইঙ্গিত ছিল মোদীরও একই কাজ করা উচিত।” অর্থাৎ ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা উচিত, জানিয়েছে সংবাদপত্রটি।
ভারত সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন ট্রাম্প: নিউ ইয়র্ক টাইমস
ভারত সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন ট্রাম্প: নিউ ইয়র্ক টাইমস
“কিন্তু মোদী বিরক্তভাবে ট্রাম্পকে বলেন যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার কোনো সম্পর্ক নেই আর তা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি হয়েছে,” বলেছে টাইমস। টাইমস বলেছে, “ফোনালাপে ট্রাম্প মোদীর মন্তব্য অনেকটা উড়িয়ে দিলেও মতোবিরোধ ও নোবেল নিয়ে আলোচনায় মোদীর অংশ নিতে অস্বীকৃতি দুই নেতার মধ্যে তিক্ততায় বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেছে।”
১৭ জুনের ওই ফোনালাপের কথা হোয়াইট হাউজ কখনো স্বীকার করেনি আর ট্রাম্পও তা নিয়ে তার সামাজিক মাধ্যকে কোনো পোস্ট করেননি। এসব নিয়ে মোদীর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ থেকে তাদের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে আর শুধু রাশিয়া না ‘তার জেরেও ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা চেপেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। আর এসবের মিলিত প্রভাবেই ট্রাম্প ভারত সফর বাতিল করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।