প্রথমে মনে হয়েছিল সাময়িক। ভাবা হচ্ছিল হয়তো তাদের ফর্ম ঠিকঠাক যাচ্ছে না, তাই কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ছন্দ ফিরে পেলে হয়তো আবার দলে ফিরবেন পাকিস্তানের দুই সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।
অনেকেরই ধারণা ছিল, আবার রানে ফিরলেই হয়তো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পাকিস্তানের হয়ে খেলতে দেখা যাবে ওই দুই সুপারস্টারকে। কিন্তু যতই দিন গড়াচ্ছে, ততই সে সম্ভাবনা কম বলে মনে হচ্ছে। পিসিবি ও পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাবর ও রিজওয়ানকে ফেরাতে মোটেই উৎসাহী নয়। যদি উৎসাহী হতো, তাহলে বাংলাদেশ সফরেই এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে দলে রাখা হতো।
বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাবর আজম ও রিজওয়ানের। পাকিস্তানের হয়ে তো বটেই, বিপিএলেও খেলেছেন কয়েকবার। কিন্তু দুই সিনিয়র ও অভিজ্ঞ তারকাকে এবারও বিবেচনা করা হয়নি। তাদের ছাড়াই সাজানো হয়েছে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড।
অনেক কারণেই বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীরা বাবর আজমের ব্যাটিংশৈলী আর রিজওয়ানের পরিশ্রমী আত্মনিবেদন খুব পছন্দ করেন। বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের একটা বড় অংশ এই দুইজনের খেলা দেখতে মুখিয়ে ছিলেন। তাদের সেই আশায় গুঁড়েবালি। এবার তো নয়ই, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাবর-রিজওয়ানকে আর টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের জার্সি গিয়ে কখনই দেখা যাবে না।
খোদ পাকিস্তান অধিনায়ক আগা সালমানের কথায়ই মিলেছে তার পরিষ্কার আভাস। সংবাদ সম্মেলনে তার কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘এখন দিনকে দিন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট পরিবর্তন হচ্ছে। বাবর এবং রিজওয়ানের মতো ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েছেন, কারণ তারা টি-টোয়েন্টি খেলেন ওয়ানডের মতো। আপনি কি মনে করেন, এটাই তাদের বাদ পড়ার আসল কারণ?’
জবাবে সালমান আগা বলেন, ‘তারা বিশ্বমানের ক্রিকেটার, পাকিস্তান দলে তাদের অনেক অবদান। খেলাটা যেভাবে খেলা উচিত, তারা সেভাবেই খেলেছেন। তবে হ্যাঁ। এটা সত্য যে টি-টোয়েন্টি প্রতি বছর, প্রতি ছয় মাস পরপরই পরিবর্তন হয়। আমাদের দলে এখন সেই খেলোয়াড়রাই আছে, যাদের আমরা চাই। আমরা একটা ব্র্যান্ডে খেলতে চাই। যে এই ব্র্যান্ডের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে, সেই সুযোগ পাবে। তবে হ্যাঁ, আমাদের দলে এখন যে খেলোয়াড়রা আছে তারা বেশ ভালো, খুবই দুর্দান্ত।’
পাকিস্তান অধিনায়ক সরাসরি বলেননি যে, বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ান আর কখনই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন না। তবে যে ব্যাখ্যাটা দিয়েছেন, তার সারমর্ম হলো- পাকিস্তান যে ‘ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট’ খেলে বা খেলতে চাচ্ছে, তার সঙ্গে বাবর-রিজওয়ানের খেলার ধরন খাপ খাচ্ছে না। তাই তারা দলে নেই।
এটুক পরিষ্কার করে না বললেও চলে। বাবর-রিজওয়ানের খেলা যেহেতু এই ‘ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট’-এর সঙ্গে যাচ্ছে না, তাই তাদের সহসাই আর ফেরার সম্ভাবনা নেই। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারটাই হয়তো শেষ হয়ে যাচ্ছে এই দুই তারকার।