রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান খান মানিক।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট-২৫) চকরাজাপুর ইউনিয়নের পানিবন্দী ৩টি গ্রামের প্রায় ৫০০পরিবারের মাঝে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। বাঘা উপজেলার বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, জেলা- বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান খান মানিক এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় এত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একজন মানবিক নেতা। তার নির্দেশনায় বণ্যাদুর্গত মানুষের মাঝে মানিবক সহায়তা হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, বিএনপি-ছাত্রদল ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠন স্থানীয়ভাবে ও কেন্দ্রীয়ভাবে বণ্যা দুর্গত এলাকার মানুষের পাশে সবসময় আছে এবং থাকবে। আজকে বিতরণ করা ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে, চাউল, ডাউল, আলু, লবন ও স্যালাইন প্যাকেট। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবদলের আহবায়ক মাসুদুর রহমান স্বজন, বাঘা উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক সেলিম আরিফ, বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও দফতর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নান্নু, বাঘা পৌর সভার সাবেক প্যানেল মেয়র রোকনুজ্জামান মিঠু, হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু তালিব, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান, রাজশাহী জেলা চাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্মআহবায়ক সাবাজ আলী ও চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ বিএনপি’র একাংশের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সুত্রে জানা গেছে, চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম-পলাশী ফতেপুর,কালিদাসখাল,আতারপাড়া,চৌমাদিয়া,দিয়াড়কাদিরপুর,লক্ষীনগর ও গড়গড়ি ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম- কড়ারি নওশারা,খানপুর গুচ্ছগ্রাম, আশরাফপুর এবং খানপুর নীচ পাড়াসহ আক্রান্ত এলাকার ১০ গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৮ হাজার। এর মধ্যে পানিবন্দী ২ হাজার ৪০০পরিবার। আশরাফপুর গ্রামের ফারুক হোসেন লিটন জানান, ৫বিঘা জমির ভুট্রা খেত বণ্যায় ডুবে গেছে। কালিদাশখালি গ্রামের বাতেন মোল্লার ৫বিঘা জমির কাউন ও ৩বিঘা জমির ধান ডুবে গেছে । মজিবর শিকদারের আবাদ করা ১০ বিঘা পেঁপে বাগান পানি উঠে মারা গেছে। কালিদাশখালি গ্রামের আনোয়ার শিকদার বলেন, তার আবাদ করা ৪বিঘা জমির ধান ও পেঁপে বাগান বণ্যায় সব ডুৃবে গেছে। গো খাদ্যের সংকটে অনেকে কাঁচা ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। যাদের ঘরে পানি গিয়েছে,তারা মাচা করে থাকছেন। পদ্মার ভাঙনের ঝুঁকিতেও রয়েছে, চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ এর চারপাশে ৩০টি পরিবার ।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশিফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮দিনের জন্য ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। লক্ষ্মীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পানি উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, তার উপজেলার প্রায় শতাধিক হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, দুযোর্গ মোকাবেলায় তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। মানবিক সহায়তায় ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।