• শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১১:০৭ অপরাহ্ন
  • |
  • |
Headline :
গাইবান্ধায় বাসর ঘরে নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, স্বামীসহ আটক ৭ সাবেক ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও জাপা নিষিদ্ধের দাবিতে নীলফামারীতে বিক্ষোভ শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮ আবির্ভাব পুণ্য স্নান মহোৎসব শুরু পাবনায় বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র শিক্ষক পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ, পাবনা জেলা কমিটি গঠন আহ্বায়ক- রকিবুল, সদস্য সচিব বাপ্পী মেরুন পোশাকধারী হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করলেন রাশেদ খান রংপুরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাপা নেতাকর্মীদের অবস্থান এবার টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর মুকসুদপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ অপু বিশ্বাস সন্তান জন্মের পর চরম অর্থকষ্টে ভুগেছেন নির্বাচন ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের আগে হবে : প্রেসসচিব

পাবনার পৈতৃক বাড়িতেই মহানায়িকা সুচিত্রা সেন এর ৯৪ তম জন্মদিন উদযাপন

শিশির ইসলাম,পাবনা / ২০৯ Time View
Update : রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫

পাবনার পৈতৃক বাড়িতেই মহানায়িকা সুচিত্রা সেন এর ৯৪ তম জন্মদিন উদযাপন

 

এ শুধু গানের দিন
এ লগন গান শোনাবার।
এ তিথি শুধু গো যেন দখিন হাওয়ার।।
এ লগনে দুটি পাখী মুখোমুখি
নীড়ে জেগে রয়,
কানে কানে রূপকথা কয়।
এ তিথি শুধু গো যেন হৃদয় চাওয়ার।
এ লগনে তুমি আমি একই সুরে
মিশে যেতে চাই।
প্রাণে প্রাণে সুর খুঁজে পাই।
এ তিথি শুধু গো যেন তোমায় পাওয়ার।

পাবনা শহরের হেম সাগর লেনে মহানায়িকা সুচিত্রা সেন এর পৈতৃক বাড়িতে প্রবেশ করতেই কানে ভেসে আসছে তারই অভিনীত সিনেমা ‘পথে হলো দেরী’ শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এর গাওয়া এই গানটি, এমন প্রায় শত কালজয়ী গানের সুরে মিশে আছে সুচিত্রা সেন। আজ ৬ এপ্রিল মহানায়িকার ৯৪তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আয়োজনে করা হয় আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠান। প্রথমে মহানায়িকার আবক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড.নরেশ মধু, অন্যান্যদের মাঝ বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি ডা. রাম দুলাল ভৌমিক, কৃষিবিদ জাফর সাদিক, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এর সাবেক সভাপতি ফরিদুল ইসলাম খোকন, পরিষদের সদস্য ফজলুল হক সুমন প্রমুখ।

১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল, করুণাময় ও ইন্দিরা দাশগুপ্তের সংসারে আলো ছড়াতে আসে ছোট্ট সদস্য, কৃষ্ণা। গায়ের রঙ ছিল একটু চাপা, তাই প্রথমে ঠাকুরদাদা মেয়ের নাম রাখলেন কৃষ্ণা। কিন্তু মা করুণাময় মেয়ের নাম রাখলেন, ‘রমা’। পাটনা থেকে বদলি হয়ে বাংলাদেশের পাবনা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদানের উদ্যেশ্যে চলে আসেন রমার বাবা-মা। পাবনাতেই কাটে শৈশব-কৈশোর। ১৯৪৭ সাল। সতেরো বছর বয়সে ফ্রক ছেড়ে কেবলই শাড়ি পরতে শুরু করেছেন, ঠিক তখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসল রমা মানে সুচিত্রা। স্বামী শিল্পপতি দিবানাথ সেন। বিয়ের পরে ‘নটীর পূজা’ নাটকে প্রথম অভিনয় করলেন এবং সেই খ্যাতি পৌঁছলো টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায়। স্বামী ও শ্বশুরের উৎসাহেই সিনেমায় নামলেন রমা সেন। স্টুডিওতে প্রথমে গিয়েছিলেন নেপথ্য গায়িকা হওয়ার জন্য, কিন্তু মোহময় সেই রূপসীকে পর্দার পেছনে রাখার মতো ভুল করেননি রুপালি পর্দার লোকেরা। রমা সহসা রাজি না হলেও, পরে স্বামী দিবানাথ সেনের অনুরোধ রাখেন।

১৯৫২ সাল, প্রথম ছবি ‘শেষ কোথায়’। কিন্তু কিছুদিন অভিনয়ের পর অর্থাভাবে তা বন্ধ হয়ে গেলে আর কখনো মুক্তি পায়নি সিনেমাটি। পরের বছর নির্মল দের পরিচালিত সাড়ে চুয়াত্তর ছবিতে সুচিত্রা সেন মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন। এবং ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে ৬৫ সপ্তাহ ধরে চলে। এটি বক্স অফিসে একটি সুপারহিট সিনেমা ছিল। এবং সুচিত্রা সেন তার অভিনয়ের জন্য প্রচুর প্রশংসা অর্জন করেন।

এরপর সুকুমার দাশগুপ্তর ‘সাত নম্বর কয়েদি’ সিনেমা থেকে চলচ্চিত্রে নিয়মিত হলেন রমা। এসময় সুকুমার দাশগুপ্তর সহকারী নীতিশ রায় তার নাম দিলেন সুচিত্রা। এর পরে নীরেন লাহিড়ীর ‘কাজরী’ ছবির মাধ্যমে ‘সুচিত্রা সেন’ নামে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। নিজস্ব চলন-বলন আর স্টাইলে যেন ক্রমেই অনুকরণীয় হয়ে উঠেছিল সুচিত্রা সেন। তার শাড়ি পরা বা চুল বাঁধার স্টাইল ছিল তখনকার আধুনিক মেয়েদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তার অভিনীত বাংলা সিনেমা ৫২টি আর হিন্দি সিনেমা মোট ৭টি। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রের পর্দাও কাঁপিয়েছেন তিনি

চরিত্রের সীমাবদ্ধতাতেও আটকে থাকেননি মহানায়িকা। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করেছেন বারবার। যখনই যে চরিত্রে পর্দায় এসেছেন, চোখ আটকে যাওয়ার মতন কিছু একটা সবসময়ই থাকত তার মধ্যে। সেটা ভক্তিরসে টইটম্বুর ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চেতন্য’তে বিষ্ণুপ্রিয়া কিংবা ‘সপ্তপদী’তে আধুনিকা ‘রিনা ব্রাউন’ই হোন- সুচিত্রার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি কখনো, সুচিত্রার মোহনীয় রূপ কমেনি একবিন্দু। হিন্দি চলচ্চিত্রে তার ক্যারিয়ার সম্পর্কে বলতে গেলে সামনে আসে দুটি নাম- ‘দেবদাস’ ও ‘আন্ধি’। স্বপ্নের চরিত্র ‘পার্বতী’ হয়ে দিলীপ কুমারের বিপরীতে তার অভিনয় দিয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলেন সুচিত্রা। গুলজারের পরিচালনায় তার অভিনয় ক্যারিয়ারের শেষ দিকে আসে ‘আন্ধি’। এ ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন সঞ্জীব কুমার।

সুচিত্রা সেনের নামের সঙ্গে যে নামটি স্মৃতির পর্দায় ভেসে ওঠে, তিনি মহানায়ক উত্তম কুমার। উত্তম-সুচিত্রার পর্দার রসায়ন কার না মন কেড়েছে! ১৯৫৪ সালের ২৬ জুন থেকে শুরু করে বহু সিনেমায় একসঙ্গে আবির্ভূত হলেও, ১৯৫৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পরিচালক অগ্রদূতের ‘অগ্নিপরীক্ষা’ সিনেমাটিতেই তাদের জুটি সাফল্য পায় প্রথম। টানা ১৫ সপ্তাহ হলে চলেছিল এ সিনেমা। রুপালি পর্দার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল তাদের মধ্য।

সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তি অভিনেত্রী। তিনি শুধু বাংলাই নয় বরং হিন্দি ছবিতে খ্যাতি অর্জন করেছেন। জন্মের সময় তার নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। তিনি তার জীবনে বেশিরভাগ সময় মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। তখনকার দিনে উত্তম-সুচিত্রার জুটিকে সিলভার জুটি বলা হত। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি তার অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। তার অভিনয়ের জন্য দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য মনোনিত হন।

 

উত্তম কুমারের মৃত্যু সুচিত্রার মনোজগতে এক আলোড়ন তুলেছিল। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই হঠাৎ মারা গেলেন উত্তম কুমার। গভীর রাতে সবাই যখন প্রিয় নায়ককে শেষ বিদায় জানিয়ে ঘরে ফিরে এসেছে, তখন নিভৃতে দেখা করতে গেলেন সুচিত্রা। ভবানীপুরে উত্তম কুমারের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে ছবিতে মালা পরিয়ে শেষ সাক্ষাৎটুকু করলেন। কেউ কেউ উত্তমের মৃত্যুকেও সুচিত্রার অন্তরালের কারণ বলে দাবি করলেও তিনি পুরোপুরি লোকচক্ষুর আড়ালে যান তার দীক্ষাগুরুর মৃত্যুর পর।

 

শোনা যায়, মহান পরিচালক সত্যজিৎ রায় একবার সুচিত্রাকে তার ‘দেবী চৌধুরানী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন, কিন্তু তারিখের সঙ্গে মিলছিল না বলে সুচিত্রা সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি কোথায় অভিনয় করবেন, কোন ব্যানারে তার নাম আসবে, তা শুধু তিনিই নির্ধারণ করতেন। তার সময়ে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নিতেন তিনি। ‘সপ্তপদী’ সিনেমাটির কথাই ধরা যাক, তাতে সুচিত্রা সেনের পারিশ্রমিক ছিল দুই লাখ টাকা, যা সে সময়ের যে কোনো অভিনেতার চেয়ে বেশি।

 

১৯৬৩ সালে ‘সাত পাকে বাঁধা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সুচিত্রা সেন ‘সিলভার প্রাইজ ফর বেস্ট অ্যাকট্রেস’ জয় করেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করে।

২০০৫ সালে তাকে ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ দেওয়ার কথা উঠলেও তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করতে আরও একবার পেছনে ফেলে আসা ওই চাকচিক্যের দুনিয়ায় পা ফেলতে চাননি। তিনি পুরস্কারটি ঘরে পাঠিয়ে দিতে বলেছিলেন এবং পুরস্কারটি তিনি আর পাননি।

 

২০১৩ সালে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আবার আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেন একসময়ের পর্দা কাঁপানো এ অভিনেত্রী। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি সকালে কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুচিত্রা সেনের মৃত্যু হয়।

আজ মহানায়িকার জন্মদিন উপলক্ষে বক্তারা বলেন এই বাড়িটি উদ্ধার করতে পাবনার সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক সহ পাবনার নাগরিক সমাজের আন্দোলনের মাধ্যমে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ গঠন করে বাড়িটি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে উদ্যেশ্য নিয়ে বাড়িটি উদ্ধার হয়েছে সেটা আমরা পায়নি। আমরা সরকার এর কাছে দাবী জানাই যত দ্রুত সম্ভব মহানায়িকার পৈতৃক বাড়িটি স্মৃতি সংগ্রহ শালা করার কারন বাড়িটি উদ্ধার হয়েছে প্রায় দশ বছর। কিন্তু সংষ্কার এর জন্য তেমন কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা চাই অতিদ্রুত সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়ির পুরাতন আদলে নতুন করে সংস্কার করতে হবে তা না হলে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে। আলোচনা শেষে কেক কাটা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালের কন্ঠ পাবনা জেলা প্রতিনিধি প্রবীর সাহা, দৈনিক আনন্দ বাজার এর পাবনা প্রতিনিধি শিশির ইসলাম, কালের কন্ঠ মাল্টিমিডিয়া পাবনা জেলা প্রতিনিধি রাজিব জোয়ার্দার, দৈনিক প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক হাসান মাহমুদ ডি, সাংবাদিক রবিউল রনি। শিক্ষার্থী দিপা সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category