রাজশাহী রুটের বিআরটিসি বাস শ্রমিক কর্তৃক মাই লাইন বাস শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে পাবনা জেলা থেকে সকল রুটে বাস, ট্রাক, ট্যাংকলোরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ ঘোষিত এ পরিবহন ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পাবনা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ফিরোজ হোসেন জানান, মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর বানেশ্বরে যাত্রী তোলা নিয়ে পাবনা গাছপাড়া মোড়ে বিআরটিসি ও মাই লাইন বাস শ্রমিকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে (পাবলিক লিজ নেয়া) বিআরটিসি বাস শ্রমিকরা মাই লাইন বাস শ্রমিকদের মারধর করে। পরে রাত ৮টার দিকে পাবনায় উভয় পক্ষকে নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে বৈঠক হয়। কিন্তু সেখানেও আলোচনার মাঝে ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের দিয়ে আবারও বিআরটিসি শ্রমিকরা মাই লাইন বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায় ও ইউনিয়নের অফিসে অগ্নীসংযোগের চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফিরোজ হোসেন বলেন, “আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।”
বুধবার সকাল ১১টায় জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়ন, জেলা ট্রাক-ট্যাংকলোরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আব্দুল হামিদ রোডে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ফিরোজ হোসেন, ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ, জেলা ট্রাক-ট্যাংকলোরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল বারিক, সিনিয়র সহ-সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ইসহাকসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
এদিকে ধর্মঘটের কারণে পাবনা থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে বাস ও পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক মফিজুল ইসলাম।
শ্রমিকরা বলেন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার না করা হলে ধর্মঘট প্রত্যাহার হবেনা। প্রয়োজনে আমরা রাজশাহী বিভাগের সকল যানবাহন বন্ধ করে দেবো।
জেলা প্রশাসক শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেন দ্রুতই এর সমাধানে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।