জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন না পাওয়ার পরও ঘাটতিপূর্ণ নথিপত্র নিয়েই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে বসেছে। ওই বৈঠকে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইসি গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যেতে চাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোকে বাধা দিচ্ছে।
ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রোববার (৩ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রতিনিধি দলসহ ইসিতে পৌঁছান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। উপস্থিত ছিলেন এনসিপির দক্ষিণের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।
গত জুন মাসে এনসিপি ইসিতে জমা দেয় প্রায় ৪৩ হাজার ৩১৬ পৃষ্ঠার দলীয় নথিপত্র, যা ট্রাকে করেই পৌঁছায় আগারগাঁওয়ে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক যাচাইয়ে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি দলটি। ইসির তথ্যমতে, এনসিপিসহ মোট ১৪৪টি রাজনৈতিক দলের কাগজপত্রে ঘাটতি রয়েছে।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন কেউ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোট নিতে গেলে সেই প্রক্রিয়াকেই নির্বাচন কমিশন বাধাগ্রস্ত করছে।’ তার ভাষায়, “এটা মেরুদণ্ডহীন একটি ইলেকশন কমিশন।”
তিনি আরও বলেন, ‘কমিশন নামক এই প্রতিষ্ঠানটি গণতন্ত্রের রক্ষক হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নয়। বরং আমরা দেখছি এর একটি অংশ সামরিক পোশাকে, বাকিরা দলীয় পোশাকে মোড়ানো। তারা জনগণের আস্থার উপযুক্ত কোনো কাজ করছে না।’
বর্তমান ইসির অধীনে ভোটে অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘আমরা কমিশনকে এখনো সুযোগ দিচ্ছি। তবে যদি দেখি তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে না, তাহলে আমরা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।’
তিনি অভিযোগ করেন, প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও কমিশন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ‘যারা অতীতে ভোট ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অপসারণের দাবিও আমরা করেছিলাম। কিন্তু এ পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি,’ বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, তাদের ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’-এ নির্বাচন কমিশন সম্পর্কেও সুস্পষ্ট অবস্থান রয়েছে। সেটি বর্তমান সংসদ নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়িত হবে, নাকি পরে—সে বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন।