সোমবার গাজার দেইর আল-বালাহের পশ্চিম অংশে সামরিক কার্গো বিমানের মাধ্যমে মানবিক ত্রাণ ফেলা হয়।
গাজার আল-জাওয়াইদা শহরে সোমবার আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলা হলে সেটি সংগ্রহ করতে ছোটে বহু ফিলিস্তিনি। অনেকের জন্য এই বাক্সের খাবারই তাদের দিনের একমাত্র আহার।
তবে বহু মানুষের মতে, আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলে মানুষের দৌড়ে নিয়ে যাওয়ার যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তা মর্যাদাহানিকর এবং অপমানজনক।
‘এইভাবে ত্রাণ দেওয়া অসম্মানজনক। আমরা কুকুর নই যে আমাদের দৌড়ে ত্রাণ নিতে হবে,’ সিএনএনকে বলেন স্থানীয় বাসিন্দা আহমাদ ফাইয়াদ ফাইয়াজ। ‘আমরা মর্যাদার সঙ্গে না খেয়ে মরতে রাজি, কিন্তু অপমানিত হয়ে নয়।’
জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথমবারের মতো আকাশপথে গাজায় ত্রাণ পাঠিয়েছে। ইসরায়েলি অবরোধের কারণে সৃষ্টি দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় এটি একটি জরুরি উদ্যোগ হলেও এর পদ্ধতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
ফাইয়াদ বলেন, ‘যারা এইভাবে ত্রাণ পাঠাচ্ছে, তাদের কোনো লজ্জা নেই। আমরা চাই ত্রাণ স্থলপথে আসুক এবং সুষ্ঠুভাবে বিতরণ হোক—যাতে মানুষ সম্মানের সঙ্গে তা গ্রহণ করতে পারে।’
তিনি নিজে ত্রাণ সংগ্রহ করেননি, কিন্তু অনেকেই দৌড়ে গিয়ে ইউএই রেড ক্রিসেন্টের চিহ্নযুক্ত বাক্সগুলো সংগ্রহ করে। সেসময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা গেলে অনেকে আতঙ্কে দৌড়ে পালিয়ে যায়, যা সিএনএনের ভিডিওতেও দেখা গেছে।
একজন ব্যক্তি জানান, তিনি সামান্য কিছু ময়দা পেয়েছেন, যা তার আট সদস্যের পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়। আরেকজন বৃদ্ধা বলেন, তিনি ভিড়ে চাপা পড়ে ত্রাণের কাছেও পৌঁছাতে পারেননি।
তবে কেউ কেউ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমি এই বাক্সটা পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। এতে কিছুটা উপকার হবে,’ বলছিলেন মোহাম্মদ আল-বারা’আ। ‘কিন্তু আপনি নিজেই দেখছেন—ত্রাণের জন্য মানুষ জীবন নিয়ে লড়ছে। এটা ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়।’
জাতিসংঘের মতে, আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ ‘খুব ব্যয়বহুল এবং বিপজ্জনক।’
‘যখন সীমান্ত দিয়ে শত শত ট্রাক প্রবেশ করানো যায়, তখন কেন এত ব্যয়বহুল উপায়ে ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে?” বলেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র জুলিয়েট তৌমা। “স্থলপথের মাধ্যমেই দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকরভাবে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব।