মায়ানমারের সবচেয়ে সংঘাতপীড়িত অঞ্চলগুলোর একটি—রাখাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমানোর ফলে তীব্র খাদ্যসংকটের বিস্তার ঘটেছে বলে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। দেশটিতে চলমান বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে এ সহায়তা কমানো হয়েছে।
রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল মায়ানমারের বহুমুখী গৃহযুদ্ধের অন্যতম তীব্র সংঘর্ষের স্থান ছিল। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাত হওয়ার পর থেকেই এ সংঘাত শুরু হয়।
জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ে জান্তা সেনা এ রাজ্যে অবরোধ জারি করেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে গেছে ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৈশ্বিক ত্রাণ তহবিলে ঘাটতির কারণে এপ্রিলে ডব্লিউএফপি পুরো দেশে এক মিলিয়ন মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা কমাতে বাধ্য হলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। এ ঘাটতির অন্যতম কারণ ছিল সংস্থার বৃহত্তম দাতা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা হ্রাস।
ডব্লিউএফপির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাখাইনের মধ্যাঞ্চলে বর্তমানে ৫৭ শতাংশ পরিবার তাদের ন্যূনতম খাদ্য চাহিদা মেটাতে পারছে না—যা গত ডিসেম্বরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। সংঘাত, অবরোধ ও তহবিল সংকটের এক মারণফাঁদ ক্ষুধা ও অপুষ্টিকে বিপজ্জনক মাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে।’
সংঘাতের কারণে সর্বত্রই ত্রাণ ও সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ডব্লিউএফপি বলছে, সক্রিয় যুদ্ধ ও প্রবেশাধিকারে বড় বাধা থাকায় রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মায়ানমারে ডব্লিউএফপির পরিচালক মাইকেল ডানফোরড বলেছেন, ‘সংঘাতে বিচ্ছিন্ন হওয়া, জীবিকা হারানো ও মানবিক সহায়তার কোনো নিরাপত্তা জাল না থাকায়, মানুষ এক দুষ্টচক্রে আটকে পড়েছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে এ সংকট একটি পূর্ণমাত্রার দুর্যোগে রূপ নেবে।’
২০২৪ সালে ডব্লিউএফপির বৃহত্তম দাতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছ থেকে পাওয়া মোট ৯৭০ কোটি ডলার তহবিলের প্রায় অর্ধেকই দিয়েছিল দেশটি।
জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করতে সব বিদেশি সহায়তা প্রকল্প স্থগিতের নির্দেশ দেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা কমানো বৈশ্বিক এক প্রবণতার অংশ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ অন্যান্য দেশও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে ত্রাণ বাজেট কমিয়ে দিচ্ছে।