রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে বিচারপতি এস কে তাহসিন আলী ও হাবিবুল গনির আদালতে এ রিটটি দায়ের করা হয়।
বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম এ রিট দায়ের করেন।
এদিকে, ডাকসু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা যত এগোচ্ছে, তর্ক-বিতর্কে ততটাই সরগরম হয়ে উঠছে ক্যাম্পাস। একদিকে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে উঠছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। সব মিলিয়ে নির্বাচনী আমেজ-উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে।
প্রচারকালে নির্বাচনে জয়ী হলে প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের জন্য কী কী করবেন—এমন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছুড়ছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচয় ও কুশল বিনিময়ের পর ভোট চাইতে দেখা যাচ্ছে প্রার্থীদের। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দূর করার পাশাপাশি গণরুম ও গেস্টরুম কালচার বন্ধ, বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা, চিকিৎসা ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বন্ধসহ দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এক প্যানেল অন্য প্যানেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও সামনে আনছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে সরগরম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
গত ২৬ আগস্ট থেকে ক্যাম্পাসে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা। গতকাল শনিবার প্রচারের পঞ্চম দিন পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণায় প্রাণবন্ত ছিল ক্যাম্পাস। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রচারের সুযোগ থাকবে। তবে ছাত্রীদের হলগুলোতে রোববার থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা প্রচারের সুযোগ থাকবে। অবশ্য প্রচারের ক্ষেত্রে আচরণবিধি কড়াভাবে মানার নির্দেশনা থাকলেও তা প্রতিপালন হচ্ছে না অনেকটাই।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, লিফলেট বিতরণসহ প্রার্থীরা নানা ধরনের কর্মসূচি চালাচ্ছেন। প্রার্থীরা প্রতিদিনই হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন, প্রার্থীরাও নির্বাচিত হলে নানা প্রতিশ্রুতি পূরণ করার কথা বলছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপগুলোতেও এখন ডাকসু নির্বাচনের আমেজ। প্রার্থীদের তৈরি করা প্রচারমূলক নানা ভিডিও ক্লিপ ঘুরছে গ্রুপগুলোতে। আবার প্রার্থীদের নিয়ে ভোটাররাও করছেন আলোচনা-সমালোচনা। অনলাইনে তর্কে-বিতর্কে জড়াচ্ছেন অনেকেই। এ ছাড়া একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের আয়োজনে ক্যাম্পাসে ‘ডাকসু: দ্য স্টুডেন্ট ভয়েজ’ শীর্ষক টকশো দিয়েছে ভিন্ন আমেজ, ছড়িয়েছে উত্তাপ। প্রার্থীরা একে অপরকে কাবু করার প্রতিযোগিতার মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন এ অনুষ্ঠানকে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরের এ ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভিন্ন ধরনের উদ্দীপনা। বহু প্রতীক্ষিত এ নির্বাচন ঘিরে তারা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি আমেজ ও আগ্রহ অনুভব করছেন। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ জানান, তারা প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছেন এবং প্রার্থীদের প্রচার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট প্যানেলের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীকেই তারা প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন।