কাজী নজরুল ইসলাম শুধু কবি নন, তিনি ছিলেন বিদ্রোহী চিন্তার প্রতীক, যিনি প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার বাণীকে সাহিত্য ও সংগীতে অমর করেছেন। তার কবিতা ও গান যুগে যুগে মানুষকে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা যুগিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধেও ছিল এক অমোঘ অনুপ্রেরণার উৎস।
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রাজধানীসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দোয়া-মাহফিল, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করেছে সেমিনার, সাহিত্য পাঠ ও নজরুল সংগীতের আসর।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া নজরুল শৈশবে ‘দুখু মিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই জীবনের দুঃখ-কষ্ট তাকে বাস্তবতার মুখোমুখি করেছিল, যা পরবর্তীতে তার লেখনীতে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রকাশ পায়। তিনি কবিতা, গান, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্রসহ সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় রেখেছেন স্বকীয়তার স্বাক্ষর।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭২ সালে নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি এবং একই বছর একুশে পদক প্রদান করা হয়।
আজকের দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে নজরুলকে—যিনি ছিলেন চিরবিদ্রোহী, প্রেম ও মানবতার কণ্ঠস্বর, এবং আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।