• শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
  • |
  • |

আগের মতো ওসি-প্রশাসননির্ভর নির্বাচন চাই না: হাসনাত আব্দুল্লাহ

স্পষ্টবাদী ডেস্ক / ২৬ Time View
Update : রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫
আগের মতো ওসি-প্রশাসননির্ভর নির্বাচন চাই না হাসনাত আব্দুল্লাহ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আগের মতো ওসিনির্ভর বা প্রশাসননির্ভর আমরা চাই না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন-আসন ভাগাভাগি বা সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন মানে হবে মধ্যরাতের ভোটের পুনরাবৃত্তি। আমরা বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করব না। জনগণের সামনে বিকল্প থাকতে হবে।

শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের আসন সমঝোতার লোভ দেখিয়ে কেনা যাবে না, আমরা বিক্রি হতে আসিনি। নতুন বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের আস্থা থাকলেই আমরা টিকে থাকব।’

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক আরো বলেন, সচিবালয়ে ৫টায় অফিস শেষ। কিন্তু ৪টায় গিয়ে গুলশানে লাইন ধরা শুরু হয়, পল্টনে লাইন ধরা শুরু হয়। আগে লাইন ধরত ধানমন্ডি ৩২ এবং পার্টি অফিস গুলিস্তানে। এ লাইন ধরা জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের জন্য সুখকর এমন নয়। ধানমন্ডি ৩২ এবং গুলিস্তানে লাইন ধরেও আওয়ামী লীগের জন্য সুখকর কিছু নিয়ে আসতে পারছিল তা-ও না। জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের অনেকেই আমাদের শত্রু জ্ঞান করে। বয়সে তাদের চেয়ে ছোট আমরা। শত্রু জ্ঞান করে লাভ নেই। আপনি যদি মনে করেন, ৫ আগস্ট যেই কারণগুলো সহায়তা করেছে, সে কারণগুলো বিদ্যমান রেখে আবার আপনি একটা নতুন রাষ্ট্র গঠনের দিকে যাবেন। তাহলে আপনি পাঁচ বছর না হোক, ১০ বছর পর আপনি আরেকটি গণপ্রতিরোধের শিকার হবেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একজন রাজনীতিবিদ বলেছেন, আমরা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নাকি টাকা নিয়ে আসছি। এখানে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিকস ও মালটিমিডিয়ার ১০০ সাংবাদিকের সামনে চ্যালেঞ্জ করে বলছি কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে হাসনাত আবদুল্লাহ বা তার সহযোদ্ধারা এক টাকার দুর্নীতি করেছে, তাহলে রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ঘটনা আছে কি না যে, অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান এবং একটা রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেস কনফারেন্স করে? ড. ইউনুস ওইদিনই লন্ডনে এ অন্তর্বর্তী সরকার বেচে দিয়ে এসেছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর ছড়ানো হচ্ছে বলে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন। তবে এখন পর্যন্ত একটি প্রমাণও হাজির করা যায়নি বলে তার দাবি। তিনি বলেন, ‘এক বছরে একজনও যদি প্রমাণ দিতে পারে যে, আমরা দুর্নীতি করেছি—নথি, অডিও, ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। কিন্তু ভুয়া সংবাদ দিয়ে চরিত্রহনন করা হলে তার দায় নিতে হবে।’

এনসিপির এ নেতা বলেন, কেবল নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেই হবে না, বরং পুরো রাজনৈতিক খেলার নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। আগে দেখা গেছে, রেফারি গোল দিয়েছে, প্রশাসন খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে। এবার নিয়ম বদলাতে হবে। রেফারি রেফারি থাকবে, খেলোয়াড় খেলোয়াড় থাকবে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব হওয়া উচিত উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, তবে সেটা অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে। নভেম্বর, ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারিতে—যে কোনো সময় নির্বাচন হোক। কিন্তু পুরোনো নিয়মে নয়। জনগণের সামনে প্রকৃত অপশন থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘জনগণ যদি আমাদের প্রত্যাখ্যান করে, সেটা আমরা মেনে নেব। কিন্তু সমঝোতার নির্বাচন নয়।’

সভায় আরো বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্য সচিব জহুরুল ইসলাম, আরিফ সোহেল ও ফরিদুল হক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category